শীতে ত্বক ভালো রাখতে যে ৮টি নিয়ম মেনে চলবেন
শীতে ত্বক ভালো রাখতে যে ৮টি নিয়ম মেনে চলবেন তা এই প্রবন্ধে আলোচনা করা হয়েছে। তীব্র ঠান্ডায় ত্বকের শুষ্কতা রুক্ষতা ও লাবণ্য হারানো খুবই সাধারণ সমস্যা। এই শীতে ত্বক ভালো রাখার নিয়ম মেনে চলুন এবং ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র ও স্বাস্থ্যকর রাখুন। পর্যাপ্ত পানি পান করা হালকা গরম পানিতে গোসল এবং
নিয়মিত ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার শীতের শুষ্কতা দূর করার উপায়গুলির মধ্যে অন্যতম। এই কার্যকর শীতকালীন স্কিনকেয়ার টিপসগুলো অনুসরণ করে আপনার ত্বককে কোমল উজ্জ্বল ও সুরক্ষিত রাখুন। শীতকালে ত্বকের যত্ন পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত জানুন এই লেখায়।পেজ সূচিপত্রঃ শীতে ত্বক ভালো রাখতে যে ৮টি নিয়ম মেনে চলবেন
- শীতে ত্বক ভালো রাখতে যে ৮টি নিয়ম মেনে চলবেন
- শীতে ত্বক ভালো রাখতে প্রচুর পানি পান করুন
- হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন শীতে ত্বক ভালো থাকবে
- প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার করুন শীতে ত্বক ভালো থাকবে
- শীতে ত্বক ভালো রাখতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
- শীতে ত্বক ভালো রাখতে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার
- ত্বকের আর্দ্রতায় লোশন বা তেল ব্যবহার করুন
- শীতে ত্বক ভালো রাখতে গায়ে রোদ লাগান
- পায়ের জন্যও দরকার বাড়তি যত্ন নিতে হবে
- শেষকথাঃ শীতে ত্বক ভালো রাখতে যে ৮টি নিয়ম মেনে চলবেন
শীতে ত্বক ভালো রাখতে যে ৮টি নিয়ম মেনে চলবেন
শীতের আবির্ভাব মানেই এক ভিন্ন পরিবেশ যেখানে বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। তার ফলস্বরূপ আমাদের সুকোমল ত্বক হারায় তার স্বাভাবিক সতেজতা এবং লাবণ্য। ত্বকের শুষ্কতা রুক্ষতা এবং নিষ্প্রাণতা এই ঋতুতে এক প্রকার অবশ্যম্ভাবী সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। একটি সুচিন্তিত শীতকালীন স্কিনকেয়ার টিপস অবলম্বন করা এই কঠোর আবহাওয়ায় নিজেদের ত্বক রক্ষার্থে প্রত্যেকের জন্য অত্যাবশ্যক। এই রুক্ষতা ও ঠান্ডার মাঝে ত্বকের জন্য প্রয়োজন হয় এক সঠিক পরিচর্যা যা সঠিক উপায়ে পরিচালিত না হলে ত্বকের গভীর কোষগুলির অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। ত্বককে সারা শীতকাল
জুড়েই উজ্জ্বল সজীব ও স্নিগ্ধ রাখতে হলে আমাদের কিছু বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নিয়ম মানতে হবে। এই নির্দেশিকাটি বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে একটি সামগ্রিক শীতকালে ত্বকের যত্ন পদ্ধতি সম্পর্কে আপনাকে একটি বিশদ ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্যে। এখানে আমরা এমন আটটি অত্যন্ত কার্যকরী ধাপ নিয়ে আলোকপাত করব যা অনুসরণ করে আপনি আপনার ত্বককে শীতের কঠোর প্রভাব থেকে সযত্নে সুরক্ষা দিতে পারবেন। এই টিপসগুলি কেবল ক্ষণস্থায়ী আরাম দেবে না বরং আপনার ত্বকের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ও তারুণ্য বজায় রাখতেও ব্যাপক সহায়তা করবে।
শীতে ত্বক ভালো রাখতে প্রচুর পানি পান করুন
শীতকালে ত্বকের অভ্যন্তর থেকে আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পরিষ্কার পানি পান করা এক অপরিহার্য কর্তব্য। যদিও এই শীতল আবহাওয়ায় স্বাভাবিকের তুলনায় আমাদের তৃষ্ণা অনেক কম অনুভূত হয় কিন্তু শরীরের অভ্যন্তরীণ পানিয় পদার্থের চাহিদা বিন্দুমাত্র হ্রাস পায় না। ডিহাইড্রেশন বা শরীরের পানিশূন্যতা নিঃসন্দেহে শীতে ত্বক ভালো রাখার নিয়ম পালনের ক্ষেত্রে একটি প্রধান অন্তরায় তৈরি করে। এই কারণে নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করা এবং দেহকে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। এই সাধারণ অভ্যাসটি কেবল ত্বকের স্বাস্থ্যকেই উন্নত করে না বরং এটি শরীরের সামগ্রিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াগুলিকেও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সহায়তা করে। পানি আমাদের ত্বকের
প্রতিটি কোষকে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে সর্বাত্মকভাবে সাহায্য করে এবং একইসাথে শরীরের মধ্যে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থগুলিকে বাইরে বের করে দেয়। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পানের ফলস্বরূপ রক্ত সঞ্চালনের হার স্বাভাবিক থাকে যা ত্বকের কোষগুলিতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করতে মুখ্য ভূমিকা নেয়। যখন আমাদের শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি গ্রহণ করে তখন ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতার যে ভারসাম্য সেটি অনায়াসে বজায় থাকে। শীতের শুষ্কতা দূর করার উপায় হিসাবে পানির ভূমিকার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা একেবারেই উচিত নয়। কেবল সাধারণ পানি পানেই নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে আপনি চাইলে বিভিন্ন তাজা ফলের রস এবং প্রাকৃতিক ভেষজ চা পান করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত
পরিমাণে চিনিযুক্ত পানীয় অথবা উচ্চ ক্যাফেইন যুক্ত পানীয় সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চললে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। প্রতিদিন অন্তত পক্ষে আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন যা আপনার ত্বকের জন্য একটি বিশাল উপকারী ব্যবস্থা। এটি ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে সময়ের আগে বার্ধক্যের ছাপ বা সূক্ষ্ম রেখা দেখা দেওয়া রোধ করতেও যথেষ্ট সাহায্য করে। পানি শরীরের মধ্যে উৎপন্ন বিষাক্ত পদার্থ এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থগুলিকে দক্ষতার সাথে অপসারণ করতে সাহায্য করে। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার হয় এবং তার নিজস্ব উজ্জ্বলতা পুনরায় ফিরে পায়। ডিহাইড্রেশনের কারণে ত্বক শুষ্ক খসখসে ও ফাটলযুক্ত হয়ে ওঠে যা শীতকালে
আরও মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই শীতের এই দিনগুলিতেও পর্যাপ্ত পানি পানের তাৎপর্য কখনোই হালকা করে দেখা উচিত নয়। বাইরের দিক থেকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা নিঃসন্দেহে জরুরি কিন্তু ভেতরের আর্দ্রতা যদি পর্যাপ্ত না থাকে তবে সেই পরিচর্যা সম্পূর্ণ সফলতা পায় না। শীতের তীব্র রুক্ষতা মোকাবিলার জন্য অভ্যন্তরীণ আর্দ্রতা সরবরাহ করা এক প্রকার স্থিতিশীল ভিত্তি স্থাপন করে। পানি পানের মাধ্যমেই ত্বকের কোষগুলি প্রয়োজনীয় পানিয় উপাদানগুলি দক্ষতার সাথে শোষণ করতে পারে। সুতরাং শীত ঋতুতে আপনার পানির বোতলটি সবসময় হাতের কাছে রাখুন এবং নিয়মিত পানি পান করতে থাকুন।
হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন শীতে ত্বক ভালো থাকবে
শীতকালে আরামের জন্য গরম পানিতে গোসল করাটা খুবই পছন্দের একটি কাজ হলেও এটি আপনার ত্বকের জন্য দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বা সিবাম সম্পূর্ণরূপে ধুয়ে যায় যা মূলত ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষার প্রধান বর্ম। এই প্রাকৃতিক তেলের স্তর সরে যাওয়ার কারণে ত্বক দ্রুত আরও বেশি শুষ্ক ত্বক এ পরিণত হয় এবং ফাটা ফাটা ভাব দেখা দেয়। শীতে ত্বক ভালো রাখার নিয়ম গুলোর মধ্যে এই অপরিহার্য দিকটি প্রায়শই বেশিরভাগ মানুষ অসাবধানতাবশত উপেক্ষা করে থাকেন। তাই গোসলের জন্য সর্বদা হালকা গরম বা উষ্ণ পানি ব্যবহার করা উচিত যা ত্বকের প্রাকৃতিক তেলের ভারসাম্যকে অটুট রাখতে সক্ষম। উষ্ণ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে
ত্বকের ছিদ্রগুলি সঠিকভাবে উন্মুক্ত হয় ফলে ময়লা সহজেই পরিষ্কার হয়ে যায় কিন্তু এটি ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতাকে শোষণ করে নেয় না। গোসলের সময়কালকে পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যে সীমিত রাখলে ত্বকের উপর পানির সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব যথেষ্ট কমে আসে। দীর্ঘ সময় ধরে গরম পানি গোসল চালিয়ে যাওয়া গরম পানিতে গোসলের অপকারিতার অন্যতম প্রধান কারণ। উষ্ণ পানি ব্যবহার করে আপনি গোসলের সময় যেমন আরাম উপভোগ করতে পারবেন তেমনই আপনার ত্বকের স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে। গোসলের সময় এমন ধরনের সাবান বা বডি ওয়াশ নির্বাচন করুন যা খুবই মৃদু প্রকৃতির এবং
ময়েশ্চারাইজিং উপাদান দ্বারা সমৃদ্ধ। উচ্চ মাত্রার ক্ষার বা ডিটারজেন্ট উপাদান আছে এমন সাবান শীতকালে সম্পূর্ণরূপে পরিহার করা একান্ত জরুরি। একটি হালকা এবং সুষম পিএইচ যুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করা হলে ত্বকের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষামূলক স্তরটি অক্ষত থাকে। উষ্ণ পানিতে গোসল সমাপ্ত হওয়ার ঠিক পর পরই আপনার ত্বককে নরম তোয়ালে দিয়ে হালকাভাবে ড্যাব করে মুছে নিতে হবে।গোসল সম্পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ত্বকের আর্দ্রতা যেন বাইরে বেরিয়ে যেতে না পারে তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই যত দ্রুত সম্ভব
ময়েশ্চারাইজার বা লোশন প্রয়োগ করতে হবে। আপনার ত্বক যখন সামান্য ভেজা অবস্থায় থাকে তখন ময়েশ্চারাইজার সবচেয়ে কার্যকরভাবে ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে। এটি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার একটি পরীক্ষিত এবং অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি। অনেকেই বিষয়টি জানেন না যে অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহারের ফলে ত্বকের উপরিভাগের স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়াগুলোও ধ্বংস হয়ে যায়। এই বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যাকটেরিয়াগুলিই ত্বকের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষামূলক বাধা বা স্কিন ব্যারিয়ারকে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। স্কিন ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হলে ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন ধরনের চুলকানি বা প্রদাহ দেখা দিতে পারে। এই অভ্যাসটি নিশ্চিত করে যে আপনার ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে অক্ষুণ্ণ থাকছে।
প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার করুন শীতে ত্বক ভালো থাকবে
শীতকালে ত্বকের হারিয়ে যাওয়া পুষ্টির জোগান দিতে এবং গুরুত্বপূর্ণ আর্দ্রতাকে ধরে রাখতে প্রাকৃতিক তেলগুলির ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকরী একটি সমাধান। নারকেল তেল খাঁটি অলিভ অয়েল বাদাম তেল অথবা জোজোবা তেলের মতো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা এই সময়ের জন্য আদর্শ। এই তেলগুলি প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড এবং বিভিন্ন ভিটামিন সমৃদ্ধ যা ত্বকের গভীর পুষ্টি নিশ্চিত করে। প্রাকৃতিক তেল দিয়ে ত্বকের যত্ন নেওয়া একটি অত্যন্ত প্রাচীন এবং ঐতিহ্যের সাথে মিশে থাকা কার্যকরী পদ্ধতি। এই তেলগুলি ত্বকের গভীরতম স্তরে প্রবেশ করে কার্যকরভাবে কাজ করে এবং ত্বককে ভেতর থেকে নরম ও কোমল রাখে। গোসল সম্পন্ন করার পর
সামান্য ভেজা অবস্থায় ত্বকে প্রাকৃতিক তেল আলতোভাবে মালিশ করা সবচেয়ে ভালো ফল দেয়। হাতের তালুতে কয়েক ফোঁটা তেল নিন এবং সারা শরীরে আলতোভাবে ধীরে ধীরে মালিশ করুন। এটি শুধুমাত্র ত্বককে দীর্ঘ সময়ের জন্য আর্দ্র রাখে না একই সাথে শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়াকেও উদ্দীপিত করে তোলে। এটি একটি খুবই সহজ শীতে ত্বক ভালো রাখার নিয়ম যা আপনি আপনার দৈনিক রুটিনে সহজেই অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। ত্বকের যে অংশগুলি স্বভাবতই বেশি শুষ্ক যেমন কনুই বা হাঁটুর অংশে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। প্রাকৃতিক তেলগুলি ত্বকের উপরিভাগে একটি শক্তিশালী সুরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করে যা আর্দ্রতাকে বাইরে বের হতে বাধা দেয়। এই
প্রতিরক্ষামূলক স্তরটি শীতের শুষ্ক বাতাস থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখে এবং পানির বাষ্পীভবনের হারকে যথেষ্ট কমিয়ে দেয়। রাসায়নিক উপাদান যুক্ত লোশনের তুলনায় এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলি ত্বকের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ ও পুষ্টিকর হিসেবে প্রমাণিত। এই তেল ব্যবহারের ফলে ত্বকের শীতে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। এর ফলে আপনার ত্বক ক্রমশ আরও বেশি নরম হয়ে ওঠে। বিশুদ্ধ তেল প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর হওয়ায় এটি ত্বকের বিভিন্ন প্রকার ক্ষতি মেরামত করতে বিশেষভাবে সহায়তা করে। আবার নারকেল তেল তার শক্তিশালী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্যের জন্য সুপরিচিত যা ত্বকের সম্ভাব্য সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে। আপনার নিজস্ব ত্বকের
প্রকারভেদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সঠিক প্রাকৃতিক তেল নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ। শুষ্ক ত্বক যাদের তাদের জন্য বিশুদ্ধ শিয়া বাটার বা অলিভ অয়েল অত্যন্ত উপকারী। রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে হাত ও পায়ের ত্বকে ভালোভাবে তেল মালিশ করে মোজা বা গ্লাভস পরিধান করে শুয়ে পড়ুন। এই নিবিড় এবং গভীর চিকিৎসা আপনার ত্বককে সারা রাত ধরে মেরামত করতে এবং পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে। এটি শীতে ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায় সহ হাতের রুক্ষতা কমাতেও বিশেষভাবে সহায়ক। পরের দিন সকালে আপনি অনুভব করতে পারবেন যে আপনার ত্বক আগের চেয়েও বেশি নরম ও কোমল হয়ে উঠেছে। এই বিশেষ চর্চাটি শীতকালীন রূপচর্চার একটি অপরিহার্য এবং কার্যকরী অংশ হওয়া উচিত।
শীতে ত্বক ভালো রাখতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
অনেকের মনেই এই ভুল ধারণাটি প্রচলিত আছে যে শীতকালে সূর্যের তেজ কম থাকায় সানস্ক্রিন ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি শীতকালেও আপনার ত্বকের গভীরতম স্তর পর্যন্ত ক্ষতি করতে পারে। এই অদৃশ্য রশ্মিগুলি মেঘ বা জানালার কাঁচ ভেদ করার ক্ষমতা রাখে এবং ত্বকের অকাল বার্ধক্য ঘটাতে সক্ষম। তাই এটি মনে রাখা উচিত যে সানস্ক্রিন বছরজুড়েই একটি অপরিহার্য ত্বক ভালো রাখার নিয়ম হিসেবে কাজ করে। আপনার ত্বকের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার জন্য এটি একটি মৌলিক এবং অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ। ইউভিএ এবং ইউভিবি উভয় প্রকারের রশ্মিই শীতকালে ত্বকের প্রয়োজনীয় কোলাজেন
নষ্ট করে দেয় এবং ত্বকে বিভিন্ন ধরনের পিগমেন্টেশন বা কালো দাগ সৃষ্টির কারণ হতে পারে। এমনকি বরফ বা তুষার সূর্যের রশ্মিকে প্রতিফলিত করে তার ক্ষতিকর প্রভাবকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। সানস্ক্রিন ত্বকের একটি শক্তিশালী সুরক্ষামূলক ঢাল হিসেবে কাজ করে এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাবকে সফলভাবে প্রতিরোধ করে। প্রতিদিন এসপিএফ ৩০ বা তার চেয়ে বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বকের লাবণ্য বজায় রাখা সহজ হয়। আপনি যখনই বাইরে বের হবেন তার অন্তত পনেরো থেকে বিশ মিনিট আগে সানস্ক্রিন প্রয়োগ করা উচিত যাতে এটি ত্বকের সাথে
ভালোভাবে মিশে যেতে পারে। প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা অন্তর পুনরায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করা প্রয়োজন বিশেষ করে যদি আপনি দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে কাজ করেন। একটি যথেষ্ট পরিমাণে সানস্ক্রিন প্রয়োগ নিশ্চিত করে যে আপনি সূর্যের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ সুরক্ষা পাচ্ছেন। এই সরল ত্বক ভালো রাখার নিয়ম টি যদি মেনে চলেন তবে আপনার ত্বক সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত থাকবে।একটি ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন নির্বাচন করুন যা ইউভিএ এবং ইউভিবি উভয় প্রকারের ক্ষতিকর রশ্মি থেকেই ত্বককে সুরক্ষা দিতে পারে। শীতকালে যেহেতু ত্বক স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সংবেদনশীল হয়ে পড়ে তাই একটি খনিজ-
ভিত্তিক বা মিনারেল সানস্ক্রিন এক্ষেত্রে বেশি উপযুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে কেমিক্যাল সানস্ক্রিন যাদের ত্বক স্পর্শকাতর তাদের জন্য জ্বালা বা অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। এই ধরনের সতর্ক নির্বাচন শীতের রূপচর্চার কৌশল এর একটি জরুরি অংশ। বর্তমান বাজারে এমন অসংখ্য সানস্ক্রিন সহজলভ্য যেগুলিতে ময়েশ্চারাইজিং উপাদানও যুক্ত করা থাকে। এই ধরনের দ্বৈত গুণসম্পন্ন পণ্য ব্যবহার করলে আপনার ত্বক একই সাথে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ও সূর্যের সুরক্ষা লাভ করবে। সানস্ক্রিন ব্যবহার শুধুমাত্র ট্যানিং রোধ করে না বরং ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।
শীতে ত্বক ভালো রাখতে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার
শীতকালে ত্বককে ভেতর ও বাইরে থেকে আর্দ্র রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত এবং পরিমাণে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা। ঠান্ডা এবং তীব্র শুষ্ক বাতাস আমাদের ত্বকের উপরিভাগ থেকে দ্রুত আর্দ্রতা শুষে নেওয়ার প্রবণতা দেখায়। ময়েশ্চারাইজার ত্বকের উপরের স্তরে একটি সুরক্ষা প্রাচীর তৈরি করে যা প্রয়োজনীয় পানির বাষ্পীভবনকে কার্যকরীভাবে বাধা দেয়। তাই শীতে ত্বক ভালো রাখার নিয়ম এর মধ্যে এই ধাপটি একটি প্রধান অনিবার্য ও অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ। দিনে অন্তত পক্ষে দুই বার সঠিকভাবে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। শীত ঋতুর জন্য আপনার হালকা লোশনগুলি সরিয়ে রেখে একটি ঘন ক্রিম বা মলম-ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা বেশি ফলপ্রসূ হবে। ক্রিম এবং
মলম জাতীয় পণ্যগুলি ত্বকের গভীর স্তরে প্রবেশ করে দীর্ঘ সময়ের জন্য আর্দ্রতা ধরে রাখতে সক্ষম। ইউরিয়া গ্লিসারিন বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের মতো উন্নত উপাদান যুক্ত ময়েশ্চারাইজারগুলি এই ঠান্ডা সময়ের জন্য আদর্শ হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি একটি প্রমাণিত ত্বক ভালো রাখার নিয়ম যা ত্বকের শুষ্কতার মতো সাধারণ সমস্যাকে সফলভাবে প্রতিরোধ করতে পারে। আপনার নিজস্ব ত্বকের ধরন বিশ্লেষণ করে সঠিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া অপরিহার্য। ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের সঠিক সময় হলো গোসল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যখন আপনার ত্বক সামান্য ভেজা অবস্থায় থাকে। ত্বককে নরম তোয়ালে দিয়ে হালকাভাবে মুছে ফেলার পর পরই দ্রুত ময়েশ্চারাইজার প্রয়োগ করলে প্রয়োজনীয়
-
আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশের অজানা ভ্রমণ স্থান
আর্দ্রতা ত্বকের ভেতরেই আটকে যায়। আপনার মুখ এবং শরীরের জন্য ভিন্ন ধরনের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা বিচক্ষণতার পরিচয়। মুখে সাধারণত হালকা অথচ কার্যকর এবং শরীরে অপেক্ষাকৃত ঘন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। এই পদ্ধতিটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। যদি আপনার ত্বক স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত শুষ্ক হয় তবে আপনি আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য একাধিক স্তর প্রয়োগের কৌশল ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে একটি হাইড্রেটিং সিরাম বা ফেসিয়াল অয়েল ব্যবহার করুন এবং তার উপর একটি ঘন ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে দিন। এই লেয়ারিং পদ্ধতিটি আপনার ত্বককে দিনের দীর্ঘ সময় ধরে
পুরোপুরি হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। এটি একটি অত্যন্ত উন্নত ত্বক ভালো রাখার নিয়ম যা তীব্র শুষ্কতা ও ফাটল মোকাবিলায় বিশেষভাবে সহায়ক। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে এই কৌশলটি অনুসরণ করা উচিত। নিয়মিত এবং ধারাবাহিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার কেবল ত্বকের শুষ্কতা দূর করে না বরং ত্বকের প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যকর ব্যারিয়ার ফাংশনকে শক্তিশালী করে তোলে। এই নিয়মিত চর্চা ত্বককে বাইরের পরিবেশগত চাপ ও দূষণের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। একদিন ব্যবহার করে পরের দিন ভুলে গেলে আপনার কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে বিলম্ব হবে। এই সহজ সরল ধাপটি আপনার শীতকালীন রূপচর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ত্বকের আর্দ্রতায় লোশন বা তেল ব্যবহার করুন
ময়েশ্চারাইজারের পাশাপাশি ত্বকের আর্দ্রতা নিশ্চিত করতে শরীরের নির্দিষ্ট অংশগুলিতে লোশন এবং তেলের ব্যবহারকে সমন্বিত করা অপরিহার্য। লোশনগুলি সাধারণত তাদের হালকা গঠনের কারণে দ্রুত শোষিত হয় কিন্তু তেলগুলি আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে লোশনের চেয়েও অনেক বেশি কার্যকর। এটি একটি সমন্বয়মূলক ত্বক ভালো রাখার নিয়ম যা ত্বককে নরম মসৃণ ও কোমল রাখতে সাহায্য করে। আপনি আপনার শরীরের ত্বকের চাহিদা বুঝে লোশন ও তেলের মধ্যে একটি সঠিক ভারসাম্য তৈরি করতে পারেন। তেলগুলি ত্বকের উপরিভাগে এক প্রকার ইমোলিয়েন্ট স্তর তৈরি করে যা ত্বকের ভেতর
থেকে পানির বাষ্পীভবনকে অনেকখানি কমিয়ে দেয়। যাদের ত্বক স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি শুষ্ক তাদের জন্য শরীরের ত্বকে প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। তেলের নিয়মিত ব্যবহার ত্বককে মসৃণতা প্রদান করে এবং শুষ্কতার কারণে সৃষ্ট চুলকানি বা অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর শীতে ত্বক ভালো রাখার নিয়ম যা দীর্ঘস্থায়ী আর্দ্রতা বজায় থাকা নিশ্চিত করে। এই বিশেষ কৌশলটি ত্বকের সবচেয়ে শুষ্ক অঞ্চলগুলিতে বিশেষভাবে উপকার দেয়। হাত পা এবং কনুইয়ের মতো শুষ্কতার শিকার অঞ্চলগুলিতে ঘন ঘন লোশন বা তেল ব্যবহার করা উচিত। এই
স্থানগুলিতে সেবাসিয়াস বা সিবাম গ্রন্থি কম থাকায় এগুলি খুব দ্রুত আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে যায়। দিনের বেলায় আপনি লোশন ব্যবহার করতে পারেন যা হালকা প্রকৃতির হয় এবং পোশাকের সাথে সহজে মিশে যায়। রাতে ঘুমানোর আগে প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার করলে ত্বক গভীর পরিচর্যা লাভ করতে পারে। এই বিশেষ যত্ন শীতের শুষ্কতা দূর করার উপায় হিসাবে প্রমাণিত। অতিরিক্ত তীব্র শীত এবং যাদের ত্বক চরম শুষ্ক তাদের জন্য বডি বাটার বা বাম ব্যবহার করা যেতে পারে যা আরও বেশি ঘন ও পুষ্টিকর
উপাদান সমৃদ্ধ। ত্বকের লাবণ্য ও সতেজতা ফিরিয়ে আনতে এই ধরনের পণ্যগুলি খুব সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য আপনাকে কেবল একবার নয় বরং সারা দিন জুড়েই একাধিকবার লোশন বা তেল প্রয়োগ করতে হবে। আপনার ত্বক যখনই টানটান বা শুষ্ক অনুভব করবে তখনই বাড়তি পণ্য ব্যবহার করতে দ্বিধা বোধ করবেন না। শুধুমাত্র একবার সকালে ব্যবহার করা শীতকালে ত্বকের জন্য যথেষ্ট নয়। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য এটি একটি অপরিহার্য ধাপ।
শীতে ত্বক ভালো রাখতে গায়ে রোদ লাগান
শীতকালে শরীরের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে রোদ লাগানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ভিটামিন ডি সংশ্লেষণে সরাসরি সহায়তা করে। ভিটামিন ডি কেবল ত্বকের স্বাস্থ্য নয় বরং আমাদের সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্যও অপরিহার্য একটি উপাদান। এই ভিটামিন ত্বকের কোষগুলির বৃদ্ধি ও মেরামত প্রক্রিয়াকে কার্যকরভাবে সমর্থন করে। এটি একটি প্রাকৃতিক ত্বক ভালো রাখার নিয়ম যা আপনার অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে। কিন্তু রোদ লাগানোর সময় অবশ্যই যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে। সকালের প্রথম দিকের নরম রোদ অথবা বিকেলের হালকা রোদ ভিটামিন ডি গ্রহণের
জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। সরাসরি কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন যা আপনার ত্বকের গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। দৈনিক দশ থেকে পনেরো মিনিটের রোদ লাগানো যথেষ্ট যা শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি সরবরাহ করতে পারে। এই অভ্যাসটি ত্বককে স্বাস্থ্যকর রাখে এবং মানসিক মেজাজ উন্নত করতেও সহায়ক।আপনাকে মনে রাখতে হবে ভিটামিন ডি সংশ্লেষণের জন্য আপনার ত্বকের কিছু অংশকে সীমিত সময়ের জন্য সূর্যের সরাসরি সংস্পর্শে আসতে দিতে হবে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে রোদে থাকার
পরিকল্পনা থাকলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরও স্বল্প সময়ের জন্য রোদ লাগানো সম্ভব। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি বিশেষত শীতকালে ত্বকের তীব্র শুষ্কতা এবং একজিমার মতো বিভিন্ন চর্মরোগের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। পর্যাপ্ত পরিমাণে রোদ লাগানোর মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের ঘাটতি সফলভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়। এটি কেবল আপনার হাড়ের স্বাস্থ্য নয় ত্বকের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকেও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করে। এই প্রাকৃতিক পদ্ধতিটি শীতের
রূপচর্চার কৌশল এর একটি অপ্রত্যাশিত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রোদে বসার সময় আপনার ত্বককে অতিরিক্ত গরম হতে দেবেন না বা সূর্যরশ্মিতে পুড়ে যেতে দেবেন না। সবসময় একটি আরামদায়ক জায়গায় বসুন এবং কিছুক্ষণ পর পরই ছায়াযুক্ত স্থানে ফিরে যাওয়ার অভ্যাস করুন। একটি টুপি বা ছাতা ব্যবহার করে আপনার মুখে সরাসরি কড়া রোদ থেকে রক্ষা করতে পারেন। এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপগুলি শীতে ত্বক ভালো রাখার নিয়ম এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
পায়ের জন্যও দরকার বাড়তি যত্ন নিতে হবে
শীতকালে আমাদের পায়ের ত্বক প্রায়শই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত থাকে যা দ্রুত শুষ্কতা ও ফাটল সৃষ্টির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। পায়ের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বকের চেয়ে স্বাভাবিকভাবেই বেশি পুরু এবং এটি সহজেই আর্দ্রতা হারানোর ঝুঁকিতে থাকে। তাই পায়ের জন্য বিশেষ এবং বাড়তি যত্ন নেওয়া একটি অপরিহার্য শীতে ত্বক ভালো রাখার নিয়ম হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে গোড়ালি ফেটে যাওয়া একটি সাধারণ এবং কখনও কখনও বেদনাদায়ক সমস্যায় পরিণত হয়। নিয়মিত হালকা গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রাখুন এবং একটি পিউমিস স্টোন বা ফুট স্ক্রাবার ব্যবহার করে পায়ের মরা
চামড়াগুলি সাবধানে সরিয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একবার এক্সফোলিয়েশন করলে পায়ের ত্বক সতেজ থাকে এবং ময়েশ্চারাইজার ভালোভাবে শোষিত হতে পারে। এটি পায়ের ত্বক ফাটা রোধে করণীয় গুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। মৃত ও শুষ্ক চামড়া অপসারণ না করলে আর্দ্রতা ত্বকের গভীরে সঠিকভাবে প্রবেশ করতে পারে না। গোসল বা পা পরিষ্কার করার ঠিক পর পরই পায়ে ঘন ময়েশ্চারাইজার ক্রিম বা ভ্যাসলিন জাতীয় পণ্য লাগান। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পায়ের ত্বকে
ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজার দিয়ে মালিশ করুন যাতে ত্বক গভীর পরিচর্যা পায়। এই রাতের বেলার পদক্ষেপটি নিশ্চিত করে যে পায়ের ত্বক রাতারাতি মেরামত হওয়ার এবং পুনরুদ্ধার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ময়েশ্চারাইজার প্রয়োগ করার পরে সুতির মোজা পরে ঘুমালে আর্দ্রতা ত্বকের ভেতরেই লক হয়ে যায় এবং ময়েশ্চারাইজারের কার্যকারিতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। মোজা কেবল আপনার পা গরম রাখে না বরং শুষ্ক শীতের বাতাস থেকেও ত্বককে কার্যকরভাবে রক্ষা করে। দিনের বেলায়ও ঘরের ভেতরে নরম
জুতো বা স্যান্ডেল ব্যবহার করা উচিত। যদি আপনার পা ফাটা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে যায় তবে বিশেষ ফুট ক্রিম ব্যবহার করুন যাতে ইউরিয়া বা ল্যাকটিক অ্যাসিডের মতো শক্তিশালী উপাদান আছে। এই উপাদানগুলি ত্বকের পুরু স্তরকে নরম করতে এবং গভীর ফাটল মেরামত করতে সহায়তা করে। পায়ের ত্বককে শীতকালে সুস্থ রাখতে এই ধরনের বিশেষ যত্ন নেওয়া অপরিহার্য। শীতের শুষ্কতা দূর করার উপায় এর এই শেষ ধাপটি আপনার শীতকালীন আরাম এবং গতিশীলতা নিশ্চিত করে।
শেষকথাঃ শীতে ত্বক ভালো রাখতে যে ৮টি নিয়ম মেনে চলবেন
অভ্যন্তরীণ আর্দ্রতা বজায় রাখা থেকে শুরু করে বাইরের সুরক্ষা নিশ্চিত করা পর্যন্ত এই যাত্রার প্রতিটি ধাপই গভীরভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা উপরে শীতে ত্বক ভালো রাখার নিয়ম হিসেবে যে আটটি ধাপে আলোচনা করেছি তা যদি আপনি অনুসরণ করেন তবে আপনার ত্বক রুক্ষতা ও শুষ্কতা থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত থাকতে পারবে। একটি সুস্থ ত্বক কেবল আপনার বাহ্যিক সৌন্দর্যকেই বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে না বরং আপনার আত্মবিশ্বাসকেও আরও মজবুত করে। শুধুমাত্র কৃত্রিম এবং রাসায়নিক উপায়ে নয় বরং প্রাকৃতিক উপায়ে শীতকালীন স্কিনকেয়ার টিপস
গুলি প্রয়োগ করা উচিত। আমাদের এই বিস্তারিত আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল লেখায় উচ্চ জটিলতা এবং বিস্ফোরণ নিশ্চিত করা যা একজন মানুষের লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য। মনে রাখবেন ত্বকের যত্ন একটি ব্যক্তিগত এবং চলমান প্রক্রিয়া যা আপনার ত্বকের নিজস্ব ধরন অনুযায়ী কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।দীর্ঘমেয়াদী ত্বকের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য এই নিয়মগুলি কেবলমাত্র শীতকালেই নয় বরং সারা বছর জুড়েই কিছুটা ভিন্নতার সাথে অনুসরণ করা জরুরি। ত্বকের সতেজতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই নিয়মিত পরিচর্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ডেইলি মিক্স24 এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url